Home কলেজে মেডিকেল কলেজে প্রথম দেখা, চার হাত এক হলো হোমে। বিয়ে হল দুই...

মেডিকেল কলেজে প্রথম দেখা, চার হাত এক হলো হোমে। বিয়ে হল দুই এইচআইভি পজেটিভ পাত্র- পাত্রীর

সকাল থেকে বাজছিল বিসমিল্লা সানাই। রজনীগন্ধার মালায় ভরে উঠেছে প্যান্ডেল।আলোতে ঝলমল করছে চারিদিক। প্রস্তুত বিবাহ বাসর। অতিথি আপ্যায়ন যেকোনো আর পাঁচটা বিয়ে বাড়িকে ছাপিয়ে গেছে। সে তো আর পাঁচটা বিয়েতেই হয়। তাহলে আর ঘটা করে বলার কি আছে?
আছে–

এই বিয়ের দুই ‘পজেটিভ’ মানুষের। একদিকে তারা যেমন মন থেকে ‘পজিটিভ’ তেমনি শরীরে বয়ে চলেছে এইচআইভি পজিটিভ। আর তাদের বিয়েতে কোনরকম কার্পণ্য করেননি উদ্যোক্তারা। কারণ তারাও মানসিকভাবে পজেটিভ।অগ্নিসাক্ষী রেখে মালা বদল করেন ও সাত পাক ঘরেন পাত্র-পাত্রী। বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করেন মহিলা পুরোহিত। আর তাতেই গাট -ছড়া বাঁধলো দুটি নিষ্পাপ মনের মানুষ। আর তাকে সম্মতি দিল সমাজ।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরের গোবিন্দপুরে ‘আনন্দ ঘর’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এইচআইভি পজেটিভ শিশুদের নিয়ে। যে সমস্ত পিতা-মাতা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাদের বাচ্চাদেরকে এই হোমে রেখে বড় করা হয়। সেরকমভাবেই এই হোমে উপস্থিত হয়েছিল মেদিনীপুরের সুনিতা যাদব। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মাকে হারিয়ে এই হোম থেকেই পড়াশোনা করে সে।

‘আনন্দঘর ‘হোম তাকে শৈশব থেকে কৈশোরে এবং যৌবনে পা রাখতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সে ‘কাফে পজিটিভ’ নামে একটি কফি শপে কর্মরতা। কিন্তু প্রতিমাসে তাকে মেডিকেল কলেজে যেতে হয় অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ভাইরাল থেরাপি চিকিৎসা নিতে। প্রতি মাসে সেখানে যেতে আলাপ হয় সৌমিত্র গায়েন নামে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির এক যুবকের সাথে। ছোটবেলায় বিড়ালের কামড়ের ইনজেকশন নিতে গিয়ে সিরিঞ্জ থেকে আক্রান্ত হন এইচআইভি পজিটিভে। সৌমিত্র সঙ্গে প্রথম দেখাতেই মন দেওয়া নেওয়া। ঈশ্বর হয়তো চেয়েছিলেন তাদের এই সম্পর্কের পরিণতি পাক। আর সেই সম্পর্ক গড়ালো বিয়েতে।

রবিবার সন্ধ্যায় সেই শুভক্ষণ হলো সম্পন্ন। যে বিয়ে আর পাঁচটা অন্য সব বিয়েকে মলিন করে দিয়েছে সম্পর্কের ভালোবাসায়। দুজন এইচআইভি পজিটিভ রোগী হওয়ার সত্বেও যেভাবে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সত্যি অকল্পনীয়। আর তাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দিতে কোন অংশেই খামতি রাখেননি উদ্যোক্তা কাকুরা। বিয়ের কার্ড ছাপানো থেকে অতিথি আপ্যায়ন সবই হয়েছে নিয়ম মেনে।
তবে এ বিষয়ে সব থেকে উদ্যোগী হয়েছেন যে মানুষটি তিনি হলেন কলকাতা পৌরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী।

এ বিষয়ে অয়ন বাবু বলেন, সমাজে এইচআইভি মানুষদের নিয়ে এখনো অনেকে বাঁকা চোখে দেখেন। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সঠিক চিকিৎসা দিলে এবং সমাজের মানুষের ভালো ব্যবহার পেলে এইচআইভি পজিটিভরা যে এগিয়ে যেতে পারে সেটা আমরা বোঝাতে চেয়েছি। তারা সমাজে কোথাও যেন কোন রকম প্রতিবন্ধকতা স্বীকার না হন সেটাও আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে।
এই বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্র-পক্ষের আংটি থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা সবই করেছেন সমাজের বেশ কিছু সহৃদয় ব্যক্তি। আর তারাই উদ্যোগী হয়েছেন এই বিয়েকে আরো বেশি মঙ্গলময় করতে।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে মৃণাল বিশ্বাস বলেন, সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি পেলে দুজন পজেটিভ এইচআইভি পিতামাতার থেকেও সুস্থ সন্তান পাওয়া সম্ভব। আমরা চাই সমাজের প্রত্যেকটা মানুষ এগিয়ে এসে এইচআইভি পজেটিভ শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণ করুক। তার কারণ যে শিশুরা এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে তারা তাদের জন্য হয়নি তারা শুধুমাত্র এই রোগ কে বহন করে চলেছে কিছু মানুষের ভুলের জন্য।

Most Popular

পোস্ত কীভাবে এল? দেখুন বিস্তারিত

পেঁয়াজ বা রসুন ছাড়াই রান্না করা এই পদটি প্রতিটি বাঙালি পরিবারের সবচেয়ে সহজ, আরামদায়ক এবং প্রধান নিরামিষ খাবার। পোস্তবাঁটার (Posto Bata) অনন্য স্বাদ, কাঁচা...

রাস্তার ধারে গাছগুলিতে করা হয় সাদা রং ,তবে জানেন কি, কেনো করা হয় ?

রাস্তা দিয়ে পারাপার করার সময় চোখের সামনে অনেক কৌতূহল পূর্ণ জিনিসপত্র ধরা পড়ে। সেই সকল কৌতূহল জিনিসপত্র সম্পর্কে জানার ইচ্ছেও কম থাকে না। সেই...

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর কেমন আছেন মুকুল রায়?

তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হল। আপাতত তিনি বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।সূত্রের খবর, ভুলে যাওয়া থেকে শুরু করে, ব্যালেন্সিংয়ের সমস্যা হচ্ছে প্রবীণ...

শিয়ালদহ মেন শাখায় ট্রেনের দুর্ভোগ বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে,নাজেহাল যাত্রীরা।

সকাল ১০.৪০ মিনিটে ডাউন ভাগীরথী এক্সপ্রেস শিয়ালদহ পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ওই ট্রেন এ দিন বিকেল চারটের পর গন্তব্যে পৌঁছোয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। সকাল...

Recent Comments