Home অনাথের গুরুকুলম বেতন দিতে না পারায় ছাড়তে হয়েছিল স্কুল, এখন সেই অনাথের গুরুকুলম...

বেতন দিতে না পারায় ছাড়তে হয়েছিল স্কুল, এখন সেই অনাথের গুরুকুলম এর মালিক তিনি।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুল ছাড়ার ধাক্কাটা উদ্দেশ্যকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল৷ তবে কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য ছন্দে ফেরে তাঁর জীবন৷ বাবার ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি ঘটে৷ নতুন করে অন্য স্কুলে ভর্তি করা হয় তাঁকে৷ এর পর আর থামতে হয়নি৷ দর্শন নিয়ে স্নাতক পাশ করেন উদ্দেশ্য৷ ছেলের এই সাফল্যে বেশ আনন্দিতই ছিল তাঁর মধ্যবিত্ত পরিবার৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার পরিবার চেয়েছিল আমি যেন একটি ভাল বেতনের চাকরি পেয়ে জীবনে থিতু হতে পারি৷ কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না।

আমি কখনই মনে করিনি যে আমার কাজ করার দক্ষতা আছে৷ আমি প্রতিযোগিতার ভিড়ে যোগ দিতে চাইনি৷ যেখানে মানুষ তাঁর সারাটা জীবন কোনও না কোনও কিছুর পিছনে দৌড়তে থাকে৷ আমার কাছে পৃথিবীটা খুবই অসুখী জায়গা৷’’ তাঁর কথায়, ‘‘শিশুদের সব সময় শেখানো হয়, কী ভাবে সফল হতে হয়৷ আমি তাঁদের শেখাতে চেয়েছি কী ভাবে জীবনটাকে উপভোগ করতে হয়৷ সেই ধারণা থেকেই জন্ম নেয় ‘গুরুকুলম’৷ ২০১৯ সালে বস্তির পাঁচজন শিশুকে নিয়ে শুরু হয় উদ্দেশ্যর খুশির স্কুল৷

ভাড়া বাড়ির ফাঁকা ক্লাস ঘরে একটা হোয়াইটবোর্ড নিয়ে তিনি বাচ্চাদের পড়াতে শুরু করেন। আজ সেই সংখ্যাটাই বেড়ে ১৫০৷  স্কুলে আসতে দারুণ পছন্দ করে খুদেরা৷ এক নজরে স্কুলটি আর পাঁচটা সাধারণ স্কুলের মতো লাগলেও, এর ভিতরে উঁকি দিলে জানা যায় প্রকৃত কাহিনি৷ এখানে ছোটদের বিভিন্ন রকম বইয়ের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলা হয়৷ বড় পড়ুয়ারা ছোটদের সঙ্গে শেয়ার করেন তাদের অভিজ্ঞতা৷

তিনজন শিক্ষক এবং বেশ কিছু বয়সে বড় পড়ুয়া গুরুকুলামের ক্লাস শেষ করার পর বিজ্ঞান, গণিত এবং সঙ্গীতের মতো বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অন্তর্দৃষ্টি ভাগ করে নেন৷ভোর পাঁচটায় যোগা দিয়ে শুরু হয় গুরুকুলমের ক্লাস৷ তাতে যোগ দেন উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা৷ এর পর এক ঘণ্টা ধ্যান সেরে তারা ফিরে যায় নিজের নিজের বাড়িতে৷ সকাল ৮টায় ফের স্কুল শুরু৷ সেই সময় স্কুলে আসে ছোটরাও৷ উদ্দেশ্য জানান,

এখানে পড়ুয়াদের বয়স অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি করা হয়৷ তাদের সিনেমা, থিয়েটার, সংবাদ, বিজ্ঞান ভিত্তিক ভিডিয়ো, তথ্যচিত্র ইত্যাদির মাধ্যমে শেখানো হয়। এখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়৷ সবটাই হয় ঘরোয়া পরিবেশে৷ দুপুর দুটোয় পড়ুয়ারা বাড়ি ফিরে যায়৷ ৪টে বাজলে ফের স্কুলে ফিরে আসে তারা৷ বিকেল পাঁচটায় স্কুল ছুটি হয়৷  স্কুলে আছে হারমোনিয়াম, তবলা সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র৷ এখানে সঙ্গীতের পাঠও নেন তাঁরা৷বছর ৩১-এর সচন এক সাংবাদমাধ্যমকে বলেন,  ‘‘এই ঘটনাটি আমাকে বদলে দিয়েছিল।

আমাকে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল৷ সেই ঘটনাটা আমি কখনওই ভুলতে পারিনি।” ২০১৯ সালে তিনি শুরু করেন ‘গুরুকুলম- খুশিয়োঁ ওয়ালা স্কুল (খুশির স্কুল)৷ নামের সঙ্গে সত্যিই মিল রয়েছে এর৷ কারণ এই স্কুলে শিশুরা নেয় জীবনের পাঠ৷

Most Popular

পোস্ত কীভাবে এল? দেখুন বিস্তারিত

পেঁয়াজ বা রসুন ছাড়াই রান্না করা এই পদটি প্রতিটি বাঙালি পরিবারের সবচেয়ে সহজ, আরামদায়ক এবং প্রধান নিরামিষ খাবার। পোস্তবাঁটার (Posto Bata) অনন্য স্বাদ, কাঁচা...

রাস্তার ধারে গাছগুলিতে করা হয় সাদা রং ,তবে জানেন কি, কেনো করা হয় ?

রাস্তা দিয়ে পারাপার করার সময় চোখের সামনে অনেক কৌতূহল পূর্ণ জিনিসপত্র ধরা পড়ে। সেই সকল কৌতূহল জিনিসপত্র সম্পর্কে জানার ইচ্ছেও কম থাকে না। সেই...

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর কেমন আছেন মুকুল রায়?

তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হল। আপাতত তিনি বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।সূত্রের খবর, ভুলে যাওয়া থেকে শুরু করে, ব্যালেন্সিংয়ের সমস্যা হচ্ছে প্রবীণ...

শিয়ালদহ মেন শাখায় ট্রেনের দুর্ভোগ বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে,নাজেহাল যাত্রীরা।

সকাল ১০.৪০ মিনিটে ডাউন ভাগীরথী এক্সপ্রেস শিয়ালদহ পৌঁছানোর কথা থাকলেও, ওই ট্রেন এ দিন বিকেল চারটের পর গন্তব্যে পৌঁছোয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। সকাল...

Recent Comments