Home আজকের খবর পাল বাড়ির পুজোয় বিষন্নতার সুর

পাল বাড়ির পুজোয় বিষন্নতার সুর

নীলাভ আকাশে তুষার শুভ্র সাদা মেঘের আনাগোনা। চিকচিকে দমোদরের চরে কাশফুলের উঁকিঝুঁকি। এরই মাঝে সোমসারের প্রাচীন জমিদার বাড়ি আড়াইশো বছরের পুরনো দুর্গাপূজা।

পাল বংশের সূচনা হয়েছিল চন্দ্রমোহন পালের হাত ধরে। পাল বংশের পূর্বপুরুষ চন্দ্রমোহন পাল তাদের জমিদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাঁকুড়া জেলার শেষ সীমানায় ইন্দাসের সোমসারে। বাঁকুড়া জেলার একেবারে পশ্চিম প্রান্ত দামোদর নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল প্রাচীন জনপদ সোমসারের পাল জমিদার বাড়ি।সেই থেকেই পাল জমিদার বাড়ি প্রায় তিনশো বছরের পুরানো ইতিহাস সাক্ষী। সে সময় চন্দ্রমোহন পালের বিলিতি বস্তের ব্যবসার প্রভাব প্রতিপত্তি গড়ে উঠেছিল গোটা বাংলা জুড়ে। ব্যাবসা বাংলা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিহার এবং উড়িষ্যাতেও।

ব্যবসায়িক আমদানি রপ্তানি ও বেশি মুনাফা লাভের কারণে তিনি কলকাতার গঙ্গা বক্ষে একটি ঘাট নির্মাণ করেছিলেন। যা পরে চাঁদপালঘাট নামে পরিচিতি পায়। চন্দ্রমোহন পাল ব্যবসায়িক সূত্রে বেশিরভাগ সময় ঘুরে বেড়াতেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।বাংলার দুই প্রান্তের ব্যবসা দেখাশোনার সুবিধার কারণে তিনি কলকাতার উল্টোডাঙ্গা বাড়ি ছেড়ে বেশিরভাগ সময় বসবাস করতেন বর্ধমানে। একদিন তিনি বর্ধমান থেকে দামোদরের জলে ডিঙ্গি ভাসান পশ্চিমদিকে। দামোদর তীরে বাঁকুড়া এবং বর্ধমানের সীমানা বরাবর একটি জায়গায় দেখে তার পছন্দ হয়। পরে তিনি সেখানেই ছয়টি তালুক কিনেই বাণিজ্য শুরু করেন। পরে স্বপ্নাদেশের শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা।

পাল বাড়ির পুজোয় বিষন্নতার সুর ( বাঁকুড়া )

পাল বাড়ির পুজোয় বিষন্নতার সুর ( বাঁকুড়া )

Gepostet von ACN Life News am Donnerstag, 22. Oktober 2020

পাল বংশের তৎকালীন দুর্গাপূজার আরম্ভর ছিল কল্পনাতীত।পুজোর সময় গরীব দুঃখীদের জন্য বিলি করা হতো বিলিতি কাপড়। পালবাড়ি আলোকিত হতো বিদেশি রোশনাই এর আলোর ছটায়। ঢাক ঢোল ছাড়াও নহবতের সানাই এর সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হতো দুর্গা দালান, অন্দরমহল, আটচালা সহ গোটা পালবাড়ির চারিদিক। বসতো কবিগান লড়াই, রামলীলার আসর, পুতুল নাচ ও পূজোর চার দিন কলকাতার যাত্রাপালা দল ঠাকুরদালানে আসর মাতাতেন। তবে এখন সেসব ইতিহাসের পাতায়। কালের নিয়মে জমিদারির রমরমা না থাকলেও জৌলুস কমলেও পুজোর সময় ফিবছর নিয়ম নীতি মেনেই পূজিতা হন পাল বাড়িতে মা মহামায়া।

কর্মসূত্রে যারা বাড়ির বাইরে থাকেন এ সময় এসে পৌঁছান প্রাচীন এই পাল বাড়িতে। এই চারটে দিন হাসি ঠাট্টা আনন্দ খাওয়া দাওয়া মেতে ওঠে গোটা পালবাড়ি। তবে এবার করোনা আবহে কিছুটা হলেও যেন বিষন্নতার সুর পালবাড়ি সদস্যদের মধ্যে। অনেকেই এবছর আসতে পারবেন না পাল বাড়ির পুজোতে।

তবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে গ্রামের সকলেই ভিড় জমান এই পাল বাড়ির দূর্গো পুজো দেখতে। এই চারটে দিন জমিদারিরত্বের আরম্ভর ছেড়ে জমিদার বাড়ির মা মেয়ে বউ রাও লেগে পড়েন পূজার সরঞ্জাম জোগাড় করতে। পূজোর দিন পালবাড়ি সদস্যদের মধ্যে এক কর্মব্যস্ততায় পরিণত হয়। সকাল থেকেই পূজোর সামগ্রী ধোঁয়া মোছা, ফুল পাড়া,মালা গাঁথা, ফল কাটা, ঠাকুরদালান আলপনা দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পাল বাড়ির মহিলারা। জৌলুস কমলেও আজও কোনো খামতি হয় না নিয়ম নীতির নিষ্ঠার।

Most Popular

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল হাঙ্গামার কারণে বড় শাস্তি হল দুই ক্লাব আধিকারিকের

আধিকারিক ১৭৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন।দু’দলের সমর্থকদের মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার একাধিক ভিডিয়ো দেখা যায়।ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল মাঠে সমর্থকদের হাঙ্গামার কারণে মৃত্যুর ঘটনায় বড় শাস্তি পেলেন...

জলের বোতলে অ্যাসিড পান করে সঙ্কটজনক শিশু, হাত জ্বলে গেল আর এক খুদের

গত ২৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের এক সদস্যের জন্মদিন উদ্‌‌যাপন উপলক্ষে ওই রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন মহম্মদ আদিল নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ, জলের বোতল দেন রেস্তরাঁর এক...

সবুজ বেনারসি ও গা ভর্তি গয়নায় সাজলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, শাড়ির দাম শুনলে মাথা ঘুরে যাবে

চট্টোপাধ্যায়কে প্রতিটা সাজেই এত সুন্দর দেখায় যে, তা দেখে প্রেমে পড়ে যান অনুরাগীরা। আর তা হবে না কেন? অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের কদর তো করতেই হবে।...

মাত্র ৬৯৯এ পেয়ে যান বার্বিকিউ, ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, রকমারি ডেজার্ট। সব মিলিয়ে ৪০রকমের খাবার পেয়ে যাবেন আপনি।

পুজোয় ডান হাতের কাজ বন্ধ রাখা যায় না। ভোজনপ্রিয় বাঙালির কাছে এটা প্রায় দুঃসাধ্য। যাঁরা সারা বছর কড়া ডায়েটে থাকেন, তাঁরাও এই কটা দিন...

Recent Comments